নাজিরপুরে ইঁদুর মারার অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু


পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ইঁদুরের হাত থেকে মাছের ঘেরের নেট রক্ষার জন্য অবৈধভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে ২৬ জুলাই সোমবার এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, মৃতু মোসাঃ মিনারা বেগম (৫০) ৩নং দেউলবাড়ী দোবরা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের দেউলবাড়ী গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানাযায়, ২ নং দেউলবাড়ী গ্রামের কৃষক মোঃ নুরুল ইসলাম ইঁদুরের হাত থেকে তাহার মাছের ঘেরের নেট রক্ষার জন্য ঘেরের চার দিকে জিআই তার (গুনা) দিয়ে ঘিরে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করে ইঁদুর নিধন করতেন। প্রতিদিন রাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে লাইন দিয়ে রাখতেন এবং সকালে খুলে ফেলতেন। কিন্তু ২৬ জুলাই সোমবার সকালে বৈদ্যুতিক ফাঁদের সংযোগটি বন্ধ না করেই কৃষক নূরুল ইসলাম তার সবজির চারা বিক্রি করতে বাজারে চলে যান। এবং প্রতিদিনের ন্যায় দুপুরের দিকে গৃহবধু ঘেরে সবজি বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে ঐ অবৈধ বিদ্যুৎ ফাঁদে নিজেই বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হয়ে মারা যান বলে তারা ধারনা করেন।
মৃত গৃহবধুর শ^াশুরী মোসাঃ হালিমা বেগম (৮০) জানান, বিকাল গড়িয়ে আসলেও পুত্রবধু ঘরে না ফেরায় আমরা তাকে খুজতে থাকি। একপর্যায় সন্ধ্যার দিকে তার খোঁজে মাছের ঘেরে গেলে নৌকার উপরে মৃত অবস্থায় দেখে ডাক চিৎকার দিলে আমার ছোট ছেলে নূরুল হক (মৃতের দেবর) সহ স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে মৃত গৃহবধুর স্বামী মোঃ নূরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমার মাছের ঘেড়ের জাল ইঁদুরে কেটে ফেলে, যার কারনে ইঁদুর মারার জন্য আমার ছেলে কারেন্টের ফাঁদ তৈরি করে ইঁদুর মারে। যা প্রতিদিন এশার নামাজের পর সংযোগ দেই এবং সকালে খুলে ফেলি।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, প্রাথকিম ভাবে ধারণা করা হচ্ছে নৌকায় করে বীজতলার ফেনা তুলতে গেলে মাথা ঘুরে নৌকায় পরে মাথায় আঁঘাত পায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে মারা যায়। মৃত্যুর কারণ উদঘটনের জন্য লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এবিষয়ে নাজিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাজিরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার ফুয়াদ আল-আরেফিন মুঠোফেনো জানান, আমি আপনার কাছে প্রথমে এ ঘটনা শুনলাম। তদন্ত করে বিষয়টি বলতে পারব। তার কাছে উন্মুক্ত স্থানে বিদ্যুৎ ফাঁদ তৈরির বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নাই।