স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তালিকায় ঠাঁই মেলেনি মণিরামপুরের ৫ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার


স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়ে ৫০ বছরে পড়ার উপক্রম। অথচ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ঠাঁই মেলেনি শহীদ ৫ স্বাধীনতাকামী আসাদুজ্জামান আসাদ, মাশিকুর রহমান তোজো, সিরাজুল ইসলাম শান্তি, আহসান উদ্দীন মানিক ও ফজলুর রহমান ফজলুর। শহীদ আসাদুজ্জামানের ভাই যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা মোঃ শফিকুজ্জামান বলেন, তার ভাইসহ ৫ শহীদ পরিবারের প্রতি শোক জানিয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়েছিল।
এটাই বড় স্বীকৃতি। শুধু একটা সার্টিফিকেটের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন বলে তার পরিবারের কেউ বিশ্বাস করেন না। তিনি মনে করেন, কিছু করার থাকলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে করা উচিত। ১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার চিনাটোলা বাজারের হরিহর নদীর তীরে এই ৫ সূর্য সন্তানকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। কিন্তু শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে রাষ্ট্রীয়ভাবে আজও কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি।
ওই নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী চিনাটোলা বাজারে লেবার সরদার শ্যামাপদ নাথ (৭৮) এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই সময় তিনি চিনাটোলা বাজারে মুটের (শ্রমিক) কাজ করতেন। ওইদিন রাজাকারদের নির্দেশে হরিহরনদীর ওপর ব্রীজ পাহারারত অবস্থায় দেখতে পান চোখ বেঁধে রাত ৮টার দিকে মুক্তিসেনা আসাদ, তোজো, শান্তি, মানিক ও ফজলুকে ব্রীজের পাশে আনা হয়।
তার কিছুক্ষন পর রাজাকার কমান্ডারের বাঁশি বেঁজে উঠার সাথে সাথে গর্জে ওঠে রাইফেল। মুহুর্তের মধ্যে পাঁচ তরতাজা যুবকের নিথরদেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। জানা যায়, তৎকালিন ছাত্র ইউনিয়নের দক্ষিন বঙ্গের নেতা নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে এই ৫ নেতা অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে ভবদহ এলাকার কপালিয়ার শানতলায় যুদ্ধ শেষে সাতক্ষীরায় যাওয়ার পর যশোর শহরে যেতে বলা হয়। পথিমধ্যে আসাদ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে উপজেলার রত্নেস্বরপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। জানতে পেরে স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর তাদেরকে আটক করে চোখ বেঁধে চিনাটোলা বাজারের পূর্বপাশে হরিহরনদীর ব্রীজে নেয়। সেখানে নিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাদের শরীরে লবণ দেয়াসহ তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দীন জানান, এই পাঁচ সূর্য্ সন্তান স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে শহীদদের সেই বধ্যভূমি। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে স্বাধীনতার পর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষনের জন্য বামদলের পক্ষ থেকে বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে তারা প্রতিবছর ২৩ অক্টোবর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা করেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ পর্যন্ত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আব্দুল হামিদ জানান, উল্লেখিত পাঁচ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের কবরসহ উপজেলার সকল শহীদদের স্মৃতি ও বদ্ধভুমি সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবী জানানো হয়েছে।