ভালোবাসার ঠাকুরালী

ভালোবাসা দুইটা মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, এক সাথে বাঁচতে অনুপ্রেরণা দেয়। সেই একই ভালোবাসায় বিচ্ছেদ হলে মানুষ আপসেট হতে হতে ডিপ্রেশনে চলে যায়, যার শেষ পরিনতি মৃত্যু।
আমার প্রশ্ন, একটা সম্পর্কে বিচ্ছেদ কেন হয়? — সম্পর্কের মধ্যে বুঝাপড়া কম থাকলে কিংবা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে অথবা সম্পর্কে দুরত্ব বেশি থাকলে ও বিচ্ছেদ হতে দেখা যায়।
আমার আবারো প্রশ্ন, সম্পর্কে বুঝাপড়া কেন থাকে না? — ধরেন দুইটা মানুষ একে অন্যকে প্রচন্ড ভালোবাসে। কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচবে না কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে চেষ্টা করে। কারো কথা কেউ মন থেকে রাখে না বা রাখলে ও মনের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা রাখে। দিনশেষে বিপরীত মানুষটার উপর একটা নেগেটিভ ধারণা চলে আসে। কিংবা আপনি গুরুত্ব দেন না। একটা সময় পর, ভালোবাসার জন্য আগের মতো সেই টান টা আর থাকে না। এতে করে যে আপনি ঘন্টায় ঘন্টায় খোঁজ নিতেন, সেই আপনি ৮/৯ ঘন্টা ও তার খোঁজ না নিয়ে থাকতে পারবেন। এবং এইভাবে শুরু হয় সম্পর্কে দূরত্ব। অতঃপর দূরত্ব থেকে সম্পর্কে বিচ্ছেদ দেখা যায়।
আমার নিজস্ব মতে, কাউকে ভালোবাসতে আগে তাকে বুঝার চেষ্টা করুন। দেখুন সে কি চায়? আপনাকে? না কি আপনার থেকে শুধুই ভালোবাসা চায়? যদি আপনাকে চায় তাহলে আপনি পৃথিবীর একজন ভাগ্যবান বা ভাগ্যবতী। আর যদি শুধু আপনার থেকে শুধুই ভালোবাসা চায়, তাহলে সে একজন স্বার্থপর মানুষ। নিজেকে ভাল রাখার জন্য আপনার থেকে শুধুই ভালোবাসা চায়। আমি বলবো, তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
কিন্তু যে আপনাকে চায়, তাকে আগলে রাখুন। তার কথা বা যেকোনো কাজ অবশ্যই আপনাকে ঘিরে থাকবে যেখানে একজনের জন্য না বরং দুইজনের জন্য থাকবে।
তার মতামতের গুরুত্ব দিন, আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আপনি নিজেকে প্রকাশ করুন। নিজের মনের মধ্যে কি চলে বিপরীত মানুষটাকে শেয়ার না করলে কখনোই সে আপনাকে বুঝবে না।
ভালোবাসতে অনেকেই পারে কিন্তু ভালোবাসা ধরে রাখতে সবাই পারে না। একজনের পক্ষে ও ভালোবাসা ধরে রাখা সম্ভব না কারণ ভালোবাসায় যেমন দুইটা মানুষের ভূমিকা থাকে তেমনি ভালোবাসাকে পবিত্র এবং দীর্ঘদিন টিকেয়ে রাখতে হলে দুইজন দুইজনকে শ্রদ্ধা-সম্মান এবং গুরুত্ব দিতে হয়। 🌸


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *