নওগাঁর রাণীনগরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মাটির দোতলার জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুই সন্তানের জননী (৩২) কে জোরপূর্বক ধর্র্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি চাচা শ^শুর জামাল মোল্লা (৪৪) এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার উজালপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরা ভুক্তভোগী পরিবারকে সুষ্ঠ বিচার পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও চালায় মাতব্বরা। এক পর্যায়ে ঘটনার ৫ দিন পর রবিবার ভুক্তভোগী বাদি হয়ে নওগাঁ আদালতে জামালের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত জামাল মোল্লা ওই গ্রামের আবুল খোড়ার ছেলে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জানান, ওই দিন রাতে স্বামী ও সন্তান মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে যান। এ সময় আমিও নামাজ আদায় করে বাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে নিজ ঘরে গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। কেবলমাত্র চোখে ঘুম এসেছে।
এ মতাবস্থায় প্রতিবেশি চাচা শ^শুর জামাল বাড়ির দোতলার জানালা ভেঙে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় আমি নিজের উজ্জত বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারিনি। ওই গৃহবধূর স্বামী জানান, ঘটনার পর সমাজের মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়েছিলাম। তারা সুষ্ঠ বিচারের আশ^াস দিলেও পরে তালবাহানা শুরু করেন।
এরপর ঘটনাটি নিয়ে থানায় যাইতে চাইলেও তারা যেতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে ঘটনার ৫ দিন পর আদালতে গিয়ে আমার স্ত্রী মামলা করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিলোনা। এক মাধ্যমে জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।
কিন্তু পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তারা আদালতে মামলা করেছেন। ওসি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালত থেকে থানায় এ ঘটনায় কোন মামলার কপি বা তদন্তের নির্দেশ আসেনি। থানায় আসনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।