সোয়াদা মা হয়েছে বাবা হবে কে?


ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী ইউনিয়নের কোনা গ্রামে। এক অসহায় গরিব পরিবারের মেয়ে সোয়াদাখানম(২১)পিতা শহীদ শেখ। মেয়ে সোয়াদা খানম এর সাথে মিথ্যা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন একই গ্রামের সাদ্দাম মিনা (২৯), পিতা-কাশেম মিনা ভোগ করে। পরবর্তীতে সোয়াদা খানমের গর্ভে সাদ্দামের বাচ্চা আসলে, তা নষ্ট করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ভুমিষ্ঠ হয় ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান জান্নাতী। সন্তানে স্বীকৃতির দাবি করলে অস্বীকার করে সাদ্দাম মিনা। সন্তানের দাবি আদায়ের জন্য প্রথমে স্থানীয় মাতুব্বর দের কাছে গেলে তার কোন সুফল পায় না সোয়াদা খানম। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হয় তার পরিবারের লোকজন। তাতেও ব্যার্থ হয় তারা। অবশেষে গোপালগঞ্জ জজ কোর্টে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল, গোপালঞ্জে ২০০৩ এর ২৭ ধারামতে এ্যাফিডেভিট করে বাদী হয়ে,১ নং- আসামী করে সাদ্দাম মিনার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সংশোধনী ২০০৩ এর ৯ (ক) ধারা একটি মামলা দায়ের করা হয়। কোর্টের দারস্থ হয়েও সুবিচার পায়নি সোয়াদা খানম। বিচারের আশায়, সন্তানের স্বীকৃতির আশায় আইন ও মাতুব্বর দের দারে দারে ঘুরছে সন্তানসহ সোয়াদা।সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাদ্দাম মিনা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সাদ্দাম মিনার প্রথম স্ত্রীর নাম হাজেরা বেগম তার দুটি মেয়ে সন্তান আছে। আরও জানা যায়, সাদ্দাম মিনা ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাজ করে। গ্রাম বাসীরা বলেন ও আগে পরেও এমন আকাম কুকাম করেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সোয়াদা খানম গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমার স্বামীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল না। এই সুযোগ নিয়ে সাদ্দাম মিনা আমদের বাড়িতে আসে। এবং আমাকে বলে তোমার স্বামীতো তোমাকে আর নেবে না। আমি তোমাকে বিয়ে করবো আমি তার প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হই নাই। পরে তার বিভিন্ন কথার প্রলোভোনে, আমাকে বিবাহ করবে বলে।এরপর আমি রাজি হয়ে যাই। তার পর থেকে সে আমাকে দিনের পর দিন ভোগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার গর্ভে সাদ্দামের সন্তান আসে। আমি সাদ্দামকে বলি আমাকে বিয়ে করার জন্য। তখন সাদ্দাম আমাকে বলে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য, কিন্তু আমি রাজি না হয়ে আমাকে বিয়ে করতে বলি। পরবর্তীতে আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের ব্যাপারটা জানাই। তখন সে আমাকে ফোনে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে এবং ক্লিনিক নিয়ে যায় কিন্তু ক্লিনিক এর লোকজন বাচ্চা নষ্ট করতে অস্বিকার করে। অবশেষে আমি জন্ম দেই সাদ্দাম মিনার সন্তান জান্নাতীকে। আমিই জানি আমার মেয়ে জান্নাতীর বাবা সাদ্দাম মিনা। আমি আমার জান্নাতীর পূর্ন স্বীকৃতি চাই। এ ব্যাপারে আমি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক, মহীলা সংস্থা, মানবাধীকার সংস্থার কাছে আকুল আবেদন জানাই,আপনাদের মাধ্যমে আমি ও আমার মেয়ে সন্তানের পুর্ন স্বীকৃতি চাই।