সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী মৌলভীবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের

রাজধানী ঢাকায় বহুদলীয় সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন। মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জাফর ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক এ.কে অলক শনিবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন,রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করে দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট ভূমিকা পালন করে। এই দায়িত্ব পালনে যারা বাধা দেন,তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিপন্থী চিন্তা ধারণ করেন। সাংবাদিক ইউনিয়নের জুনিয়র সদস্য সত্যজিৎ দাস আরো বলেন,প্রায়শই রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম কর্মীরা। এ সব হামলার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাওয়া যায় না।

এ ধরণের অপসংস্কৃতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে,তা না হলে,স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য যে,শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় বহুদলীয় সমাবেশে সহিংসতার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলা ও পুলিশের টিয়ারশেলে অন্তত ২৪ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। এসময় তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ক্যামেরা,মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট শেখ নাসির ও ফ্রিল্যান্সার মারুফ।রাজারবাগ এলাকায় একুশে টেলিভিশনের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাংচুর করে জামায়াত- বিএনপির কর্মী।

এসময় আহত হন একুশে টিভির সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপার্সন আরিফুর রহমান। নটরডেম কলেজের সামনে বিএনপি’র কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছেন ভোরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ আনিস। তিনি জানিয়েছেন,তাকে মারধর করে ক্যামেরা নিয়ে গেছে যুবদল ও জামায়াত কর্মীরা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পোস্টার ফেস্টুনে রাস্তার মাঝে আগুন দেওয়ার ছবি তুলতে গেলে তারা হামলা চালায়।

সিনিয়র ফটোগ্রাফার নুরুজ্জামান শাহাদাত এবং রিপোর্টার পলাশ আহত হয়েছেন। নয়াপল্টন সংলগ্ন নাইটেঙ্গেল মোড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে আহত হয়েছেন সময় টিভির সাংবাদিক মারুফ। হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক রাফসান জানি। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেগুনবাগিচার দিকে দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে রাফসান রাস্তায় পড়ে যান। এসময় তার মাথা ও সারা শরীরে বেদমভাবে আঘাত করা হয়। পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যান।

এছাড়া কালবেলার সাংবাদিক আবু সালেহ মুসা, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক আহত হয়েছেন। দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক এস এম মাসুম আহত হয়েছেন। গ্রীন টিভির বিশেষ প্রতিনিধি রুদ্র সাইফুল্লাহ ও ক্যামেরা পার্সন আরজু বিএনপির হামলায় আহত হয়েছেন।

কালের কণ্ঠের সিনিয়র ফটোগ্রাফার শেখ হাসান ও স্টাফ ফটোগ্রাফার লুৎফর রহমান হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার সালেকিন তারিন হামলার শিকার হয়েছেন। শেয়ার বিজের সাংবাদিক হামিদুর রহমান পুলিশের টিয়ারশেলে আহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন নিউ এইজের আহাম্মদ ফয়েজ। বাংলা ট্রিবিউনের সালমান তারেক শাকিল,ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন এবং জোবায়ের আহমেদ আহত হয়েছেন। ব্রেকিং নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার হয়েছেন। দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি হামলার শিকার হয়েছেন। আমার সংবাদের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট আব্দুল্লাহ আল নোমান আহত। নাইটেংগেল মোড়ে ভাঙচুর করা হয় যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি। এছাড়া রাজারবাগে মানবকণ্ঠের মনির জারিফের প্রেস লেখা সম্বলিত মোটরসাইকেল সহ অনেক সাংবাদিকদেরই মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *