শিক্ষকের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ফাঁস, স্কুল থেকে বহিষ্কার

গোপালগঞ্জ সদরের সাহাপুর ইউনিয়নে এক স্কুল শিক্ষকের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ফাস হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার প্রতিটি রাস্তাঘাট, পাড়া মহল্লাসহ চায়ের দোকানে চলছে আলোচনা সমালোচনা। এদিকে ভিডিওটি ফাস হওয়ার পর ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওই শিক্ষকের নাম জগদীশ মজুমদার। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পাটিকেলবাড়ি বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়র সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জগদীশ মজুমদার। সেখানে ছাত্রদের একটি আবাসিক হোস্টেলও খুলেছেন তিনি। সম্প্রতি হোস্টেলর পাশে টিনসেটের একটি ঘরে এক নারীর সঙ্গে অবৈধভাবে শারিরীক সম্পর্ক করেন তিনি। সেই অন্তরঙ্গ মুহুর্তের একাধিক ভিডিও গতকাল বুধবার সকালে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিক্ষককে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুল থেকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পাটিকেলবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মনোজ কুমার বলেন, শিক্ষক জগদীশ মজুমদারের বাড়ি মুকসুদপুর। তিনি চাকরি পাওয়ার পর থেকে এখানে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। তার স্ত্রী, সন্তান সকলেই বাইরে থাকেন। তার বাড়িতে তিনি স্কুলের ছাত্রদের জন্য আবাসিক হোস্টেল খুলেছে । সেখানে অনেক শিক্ষার্থী থেকে পড়ালেখা করেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেকদিন যাবৎ এমন গুঞ্জন ছিল। তিনি তার বাড়িতে নারীদের এনে অবৈধ সম্পর্ক করেন। গতকাল বুধবার এমন কয়েকটি ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে আমরাও হতাশ। তিনি একজন শিক্ষক হয়ে এমন কর্মকান্ড করবেন তা কেউ ভাবতে পারছি না। এটা তার নৈতিক স্খলন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমার ভদ্র বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের নজরে এসেছে, আমরা তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,বিষয়টি জানার পর আমি এবিষয়ে খোজ নিয়ে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছি। এছাড়াও ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে স্কুল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবিষয়ে ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া মেলেনি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *