শনিবার ভাস্কর্য নিয়ে ফতোয়া দেবেন হেফাজত ও কওমি আলেমরা

এম এম ছাদ্দাম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ

ভার্স্কয ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়্যাতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় বৈঠকে বসছেন বেশ কয়েকজন হেফাজত নেতা ও কওমি আলেমরা। বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর তা সরকারকেও জানাতে চান তারা।

বৈঠকে আমন্ত্রণপ্রাপ্তরা বলছেন, ভাস্কর্য ইস্যুর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখবেন তারা।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, ‘ভাস্কর্য ও মূর্তি’ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তা নিয়ে কোরআন হাদীসের আলোকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমদের দেয়া ফতোয়া বিচার বিবেচনা করে একটা মতামত দেয়া হবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাজা-বাদশাহ এবং সরকার প্রধানদের যে ভাস্কর্য করা হয়েছে তা কি ইসলামের ফতোয়া অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে নাকি সরকারি ক্ষমতাবলে করা হয়েছে।’ যদি তারা ইসলামের ফতোয়া অনুযায়ী ভাস্কর্য করে থাকেন তাহলে কোন ফতোয়ায় ভাস্কর্য তৈরি করেছে তা দেখতে হবে বলেও জানান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

ওআইসি ও রাবেতা-ই-আলম আল ইসলামীসহ শীর্ষ ইসলামী সংগঠনের ফতোয়া বিশ্লেষণ করে ভাস্কর্য নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের কাছে তুলে ধরতে চান হেফাজত নেতা ও কওমি আলেমরা।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, ‘বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরে সরকারকে জানানো হবে এ বিষয়ে কার কি মত। কোথায় কি বলা হয়েছে সব জানিয়ে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। বাকি সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী জানান, আমরা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি বঙ্গবন্ধুর বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই এ বিষয়ে আমরা বিতর্ক তৈরি করতে চাই না।

ভাস্কর্যের বিষয়ে করনীয় নিয়ে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বিমত আছে বলে জানান সাবেক হেফাজত নেতা মুফতি ওয়াক্কাস। তবে, তা মানতে নারাজ বর্তমান নেতৃত্ব। যেকোনো বিষয়ে মতামত প্রকাশে হেফাজত ও কওমি আলেমদের আরও সহনশীল আচরণের পরামর্শ সংগঠনের সাবেক নেতাদের।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *