রাণীনগরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এলজিইডির কর্তাদের বিরুদ্ধে

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পরিষদে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” ম্যুরাল নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্মাণ কাজ চলা অবস্থায় দফায় দফায় ঠিকাদারের কাজ থেকে ঘুষ আদায় করা হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে এলজিইডির তিন কর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ম্যুরাল নির্মান কাজের ঠিকাদার দেলোয়ার ও ইলিয়াস। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা পরিষদে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” ম্যুরাল নির্মাণ কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে জেনিথ কন্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পান।

তার আত্মীয় ঠিকাদার রাজশাহীর চারঘাটের দেলোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস সরকার ম্যুরাল নির্মাণ কাজটি শুরু করেন। কাজ চলাকালে মোট ৫ দিন ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। প্রতিটি ঢালায় কাজের দিন ১৫ শ টাকা করে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ম্যুরালের স্লাব করার সময় ১৫ হাজার টাকা, সর্বশেষ ঢালায়ের সময় ১ হাজার টাকা এবং বিলে স্বাক্ষর করার সময় ১১ হাজার টাকা উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করে বিলে স্বাক্ষর করেন। তাছাড়াও এলজিইডির হিসাব রক্ষক সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা প্রকৌশলীর জন্য ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর করানোর ব্যবস্থা করান।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে দুর্নীতি/ঘুষ গ্রহণের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসের ওই তিন কর্তার বিরুদ্ধে গত (২ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ম্যুরাল নির্মান কাজের ঠিকাদার দেলোয়ার ও ইলিয়াস। জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে “বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিব” ম্যুরাল নির্মাণের জন্য গত বছর টেন্ডারের আহ্বান করা হয়। সেই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি পান জেনিথ কন্ট্রাকশন।

নির্মাণ কাজের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন জানান, নির্দিষ্ট সময়ে শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজ করলেও ওই কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স দফায় দফায় আমাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেছেন। এছাড়া হিসাব রক্ষক সাখাওয়াত উপজেলা প্রকৌশলীর নামে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বিলে স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা করান। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাদের কাছে থেকে এভাবে দফায় দফায় ঘুষ নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে রাণীনগর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স সরদার বলেন, ঠিকাদাররা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজে অনিয়ম করছিল। শতভাগ কাজ করে নেওয়ায় তারা এমন মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলীর নামে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির হিসাব রক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি এমন লোক না। তাদের কাছ থেকে কোনো ঘুষ নেইনি। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মো: শহীদুল হক কোনো মন্তব্য না করে এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে তদন্তের জন্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অফিসে আসতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *