ইপিজেড নির্মাণে ৫০২ একর জমি অধিগ্রহণে সরকারের অনুমোদন


দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ‘যশোর ইপিজেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে সরকার। ইতিমধ্যে জরিপ কার্যক্রম শেষ করে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার অদূরে প্রেমবাগ ইউনিয়ন সংলগ্ন এলাকায় এ ইপিজেড নির্মানের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
ইপিজেড নির্মাণের লক্ষে উপজেলার মাগুরা, প্রেমবাগ, মহাকাল, আমডাঙ্গা, চেঙ্গুটিয়া, আরাজি বাহিরঘাট, রাজাপুর ও বালিয়াডাঙ্গা মৌজার ৫০২ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সূত্রে জানাগেছে।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, গত ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১ (প্রতিকল্প) মোঃ জহুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রেজমি অধিগ্রহনের নির্শেনা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্র সংখ্যা .০৩.০৬.০০০০.০৬৮.১৮.০১১.২০-৬০৩ এ বেপজা’র ২২-০৯-২০২০ তারিখের ০৩.০৬.২৬১৬.৩০৭.১৮.০০৪.২০-১০৩৮ স্মারক ও জেলা প্রশাসক যশোর এর ০৮-০৯-২০২০ তারিখের ০৫.৪৪.৪১০০.০০৬.০২.১০৫.২০-২৫৪ নং স্মারকের সত্রানুযায়ী অধিগ্রহনের নির্দেশনা পত্রে বলা হয়েছে, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় ‘যশোর রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ’ এলাকা স্থাপনের নিমিত্তে ৫০২.৬২ একর ভুমি বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এর অনুকূলে অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।
অধিগ্রহণের জন্য মৌজাভিত্তিক জমির পরিমাণ ও শ্রেনিও চিহ্নিত করা হয়েছে উক্ত অনুমোদন পত্রে। এর মধ্যে উপজেলার মাগুরা মৌজায় ০.৯৩ একর ধানী জমি, রাজাপুর মৌজায় ৯০.৭৫ একর ধানী জমি, প্রেমবাগ মৌজায় ১৬৫.৮৭৪০ একর ধানী জমি, ৩.৯৬০০ একর ডোবা ও ২.০৩০০ একর অনিশ্চিত জমি, চেঙ্গুটিয়া মৌজায় ২৫.২৪ একর ধানী জমি, আরাজি বাহিরঘাট মৌজায় ৯৭.৬৮৩০ একর ধানী জমি, ০.৮৮০০ একর ডোবা ও ০.৯০০০ একর হালট, বালিয়াডাঙ্গা মৌজায় ১০৭.৪৩৬৫ একর ধানী জমি, ৩.৪০০০ একর ডাঙ্গা, ০.১৫০০ একর বাগান, ১.৩৬০০ একর রাস্তা ও ০.৪৩০০ একর হালট, মহাকাল মৌজায় ১.৪৫ একর ধানী জমি ও আমডাঙ্গা মৌজায় ০.১৫০০ একর ধানী জমি, মোট ৮ টি মৌজায় ৫০২. ৬২ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বর্তমানে এসকল এলাকায় জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই শুরু হবে ইপিজেড স্থাপনের কাজ। সচেতন মহল ও আমদানী রপ্তানীকারকসহ সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীদের দাবি এ অঞ্চলে ইপিজেড স্থপিত হলে গোটা অভয়নগর উপজেলার উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে। বদলে যাবে যশোর-খুলনাসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট। সাধারণ মানুষের আয় বাড়বে। কর্মসংস্থান হবে শত শত বেকার মানুষের। বেকারত্বের সংখ্যা হ্রাসের সাথে সাথে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে।
বিশেষ করে যশোরবাসীর দুঃখ খ্যাত ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলের অসহায় মানুষের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন রচিত হবে এই ইপিজেড অঞ্চল। সূত্র জানায়, বিশেষ করে ভবদহবাসীর দুঃখ ঘোচাতেই যশোর ইপিজেডের জন্য এ অঞ্চলকে বেছে নিয়েছে সরকার। কেবল যশোর-খুলনা নয়, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের উপকূলিয় অঞ্চলের মানুষেরও কর্মসংস্থান বাড়বে যশোর ইপিজেড স্থাপিত হলে। কেবল কর্মসংস্থানই নয়, এ অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রশার ঘটবে। শ্রীবৃদ্ধি হবে যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার।
তাছাড়া নওয়াপাড়া নদী বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে। সেই সাথে আমদানি-রপ্তানীকারকদের থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরাও নওয়াপাড়াকে ব্যবসার উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে বেছে নেবে। ফলে এ অঞ্চল থেকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় বাড়বে। এলাকার সচেতন মহল যশোর ইপিজেড অভয়নগর উপজেলায় স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সেই সাথে এ ইপিজেড স্থাপনে অগ্রগামী ভুমিকা রেখে ভুমি জরিপসহ যাবতীয় কর্মে নিরলস প্ররিশ্রম করায় অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুসেইন খান ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) কেএম রফিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ ভুমি অধিগ্রহনের অনুমোদনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অভয়নগর উপজেলায় ‘ যশোর ইপিজেড’ স্থাপনের বিরোধীতা করতে শুরু করেছে। এবং এ অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন যাতে না হয় সে জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তাদের অভিযোগ সরকার নির্ধারিত ইপিজেড অঞ্চলের মাঠ ও বিলগুলোতে বিপুল পরিমান খাস জমি রয়েছে। যা যুগ যুগ ধরে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে ভোগ করে আসছেন। ভুমি অধিগ্রহনের ফলে ওই সকল খাস জমি হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং ওই সকল জমির জন্য তারা সরকারের কাছ থেকে কোন মূল্য পাবেন না। এ কারনেই ওই স্বার্থান্বেষী মহলটি এ অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন যাতে না হয় তার জন্য বহুমুখি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলের লাখ লাখ অসহায় মানুষ ও গোটা অভয়নগর উপজেলাবাসী দ্রুত ভুমি অধিগ্রহন পূর্বক এ অঞ্চলে যশোর ইপিজেড স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন।