ময়মনসিংহ সীমান্তে হাতির তান্ডবে গ্রামবাসি আতঙ্কে!


ময়মনসিংহের সীমান্তে বেড়েছে হাতির আতঙ্ক হাতির তান্ডবে গ্রামবাসি রহেছে আতঙ্কে। জেলার হালুয়াঘাটের প্রত্যান্ত গ্রামগুলোতে হাতির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে ও রাতে গ্রামে হাতির পাল প্রবেশ করায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্ত এলাকা গ্রামবাসি। কয়েকদিন ধরে বেড়েছে হাতির পালের উপদ্রব। এ সমস্যাটি সীমান্তে নতুন নয়। গত একযুগ ধরে মানুষ ও হাতি একে অপরকে তাড়া করে রক্ষা করলেও সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কেউ। এতে হাতির তাণ্ডবে মানুষ ও মানুষের তাণ্ডবে হাতির প্রাণহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হালুয়াঘাট উপজেলাটি ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা। উপজেলাটির ভুবনকুড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামই সীমান্তের কাছাকাছি।
অন্তত একযুগ ধরে সীমান্তের গ্রামগুলোতে ভারতীয় হাতির দল আসতে শুরু করে। শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকায় হাতির উপদ্রবের কথা সবার জানা থাকলেও হালুয়াঘাট এলাকায় হাতির পাল নেমে মানুষের ক্ষতি করার বিষয় ছিল অগোচরে। সীমান্তের কাঁটাতার-সংলগ্ন সরু নদীর সেতুর নিচ উন্মুক্ত থাকায় সেখান দিয়ে হাতিগুলো গ্রামে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়া এবং যখন গ্রামের গাছগুলোতে কাঁঠাল ও অন্যান্য মৌসুমি ফল পাকতে শুরু করে তখন গ্রামে আসে হাতির পাল।
শুরুর দিকে কম এলেও ৪ বছর ধরে বেড়েছে হাতির পালের উপদ্রব। প্রতি দলে ৩০ থেকে ৫০টি হাতি একবারে গ্রামে প্রবেশ করে। কয়েকটি দল বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রবেশ করায় একদিকে তাড়া করলে অন্যদিক দিয়ে হানা দেয়। হাতির তাণ্ডব থেকে নিজেদের রক্ষায় গ্রামের মানুষ পটকা ফাটানো, মশাল ও টর্চ লাইটের আলো জ্বেলে শব্দ করে তাড়া করেন। নিজেদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাতির হাত থেকে ঘরবাড়ি ও ফসল রক্ষায় তাড়া করেন গ্রামবাসী। চলতি বছর ফের হাতির উপদ্রব শুরু হয়েছে। ১৫ দিন ধরে হালুয়াঘাটের ভুবনকুড়া ইউনিয়নের ধোপাজুরি, বানাইচিরিঙ্গীপাড়া, রঙ্গমপাড়া, কড়ইতলী, জখমকুড়া, ধনভাঙা, কোচপাড়া ও সদর ইউনিয়নের গোবরাকুড়া এলাকায় চলছে হাতির তাণ্ডব,হাতির পাল থেকে নিজেদের রক্ষায় এলাকায় ১০টি দল গঠন করা হয়েছে।
প্রতিটি দলে যুবক ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ১৫ জন সদস্য পালা করে পাহারা দিচ্ছেন দিনে ও রাতে। তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাতির হাত থেকে রক্ষা পেতে মশালের কেরোসিন,টর্চলাইট ও পটকা সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রামগুলোতে হাতির আক্রমণের খবর পেয়ে গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির পাশে কাঁটা জাতীয় গাছ লাগাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।