“”মোল্লাহাটে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি, করোনার (কোভিড-১৯) ভয়ে করছেনা টেস্ট””

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে জ্বর সর্দি ও কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সব বয়সি লোকজন ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত হওয়া বেশীরভাগ রোগী করোনার ভয়ে টেস্ট না করিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার যারা সচেতন তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পরিক্ষা/টেস্ট করাচ্ছেন। যারা টেস্ট করাচ্ছেন তাদের মাঝে ৬০% থেকে ৭০% করোনা শনাক্ত হচ্ছেন। এসকল রোগীর অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের তদারকি ও যথাযথ চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে উঠছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এসব রোগীর সংখ্যা। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গড়ে উঠা ফার্মেসির দোকানগুলোতে প্যারাসিটামল, নাপা এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাছাড়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অনেকে গোপন রেখে পারিবারিকভাবে সতর্ক থেকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে আসছেন। হোম কোয়ারেন্টাইন ও বাড়ি লকডাউন পরিস্থিতি এড়াতে এবং করোনা আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা করতে চান না তারা। এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নানা বয়সী লোকদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত হওয়া ওইসব রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন। আবার অনেকে গোপনীয় ভাবে বাড়িতে থেকে ফার্মেসী থেকে ওষুধ এনে খাচ্ছেন। করোনার ভয়ে এসকল লোকজন টেস্ট করছেনা। আর যারা করছেন তাদের মধ্যে অনেকেই করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, সাধারণত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে প্রায় প্রতি পরিবারে সর্দি কাশি জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যেহেতু সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাই যারা জ্বরসহ সর্দি কাশি আক্রান্ত হয়েছে তারা যত্রতত্র ঘোরাঘোরি না করা ভালো। তাছাড়া ঘরে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি তরল জাতীয় খাবার ও বিভিন্ন ফলমুল খাওয়া এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা নিতে পরামর্শে দেন। এছাড়া মানুষ স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে, তাই জ্বরসহ সর্দি কাশি দেখা দিলে করোনা পরীক্ষা করা সহ আমাদের হটলাইন নাম্বারে ফোন করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, আগামীকাল (সোমবার) থেকে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন রোধে , করোনা রোগী শনাক্ত করণ ও কোভিড টেস্ট যাতে মোল্লাহাটে শতভাগ করা যায় সেই লক্ষে উপজেলা প্রশাসন এর সার্বিক তত্বাবধানে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় উপজেলার ৭’টি ইউনিয়ন থেকেই নমুনা সংগ্রহ/কোভিড ১৯ টেস্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, যা শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হতো। ইউনিয়ন ভিত্তিক যেসকল বাড়িতে জ্বর , সর্দি, কাশি বা করোনার উপসর্গ দেখা দিবে সেসকল বাড়ির তথ্য সেচ্ছাসেবকগণ কালেকশন করবে এবং তাদের নির্ভয়ে করোনা টেস্ট করানোর জন্য উৎসাহিত করবেন। তিনি আরো বলেন, করোনা রোগীকে অবহেলা করার কিছু নেই , যার করোনা শনাক্ত হবে তাদের পরিবারের চিকিৎসা এবং সার্বিক সহায়তা উপজেলা প্রশাসন করবে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *