মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন উপজেলার ২ শীর্ষ নেতার লড়াই-প্রচারণায় এগিয়ে নৌকার প্রার্থী

আসন্ন ৩০ জানুয়ারী মণিরামপুর পৌরসভার পঞ্চম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জমজমাট এ নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলার ২ শীর্ষ নেতার ভোট লড়াই। বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট ২ প্রার্থীার ভিন্ন মাত্রার জমজমাট প্রচার-প্রচারনায় আড়োলন সৃষ্টি হলেও-প্রচারে এগিয়ে আছেন নৌকার প্রতীকের প্রার্থী। নির্বাচনে ৩জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকছে কাজী মাহমুদুল হাসানের নৌকা প্রতীকের সাথে শহীদ ইকবাল হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকের। জানাযায়, আগামী ৩০ জানয়ারী তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন ৩ জন। আওয়ামীলীগ মনোনীত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আলহাজ্জ্ব কাজী মাহমুদুল হাসান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাষ্টার আবু তালেবের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। প্রতীক পাওয়ার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত প্রার্থী, প্রার্থীদের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে একটু গাছাড়া ভাব থাকলেও প্রতীক পাবার সাথে-সাথেই জমে উঠছে নির্বাচনী আমেজ। প্রচার প্রচারনা ও ভোট প্রার্থনায় প্রধান দুই প্রতিদ্বন্ধি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন ব্যস্ত সময় পার করলেও নির্বাচনের মাঠ দেখা নেই ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাষ্টার মোঃ আবু তালেবের। ১২টি গ্রামের সমন্বয়ে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষনা হয়েছে। সে মোতাবেক এর উন্নয়নের কার্যক্রম দ্রæত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়াতন বিশিষ্ট্য এ পৌরসভায় প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের বসবাস। মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৯’শ ৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮’শ ৩৬ জন এবং মহিলা ১১ হাজার ১’শ ২৯ জন। ভোটাররা এখন আলোচনায় মোজেছেন কে বিজয়ী হবেন মণিরামপুর পৌরসভার পঞ্চম পৌর পিতা? প্রধান ২ প্রতিদ্বন্ধী নৌকা ও ধানের শীষের ২ হেভিওয়েট প্রার্থী প্রচার-প্রচারনায় চালিয়ে যাচ্ছেন খুব জরেসরেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উভয় প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছেন। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ২ হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতিদ্বদ্বিতার কারণে ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়ায় চলছে ভোটের হিসেবে-নিকাশ। সেই সাথে থেমে নেই দৈনিক পত্রিকা, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এ সমস্ত প্রচার-প্রচারনা, আলোচনা-সমালোচনা আর সাধারণ ভোটারদের মতামতকে প্রাধান্য দিলে বলা যায়-উভয় প্রার্থীই যোগ্য এবং দু’জনের মধ্যে তুমূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। যে কেউ জয়লাভ করতে পারেন। তবে কেউ-কেউ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন। কারণ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান চলমান সময়ে পৌর মেয়র হিসেবে ব্যাপক উন্নয়নসহ মাননীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীল স্বপন ভট্টাচার্যের সহায়তায় পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নে নৌকার প্রার্থীর বিকল্প নেই-এমনটি মনে করেন সূধী জনেরা। তাছাড়া অতীতের সকল ভূল ভ্রান্তি দূরীভূত করে মণিরামপুরের আওয়ামীলীগ এখন একাট্টা হয়ে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে পাশ করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগসহ দলটির সকল পর্যায়ের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এলাকা ভাগ করে নিয়ে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করেই ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে পৌছুয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে সাধারণ ভোটাররা অনেকটা কাজী মাহমুদুল হাসনের নৌকা প্রতীকের দিকে ঝুকে যাচ্ছেন। এ হিসেবে জয়ের পাল্লাটা তার দিকেইে বেশি। এক্ষেত্রে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনেটা ব্যাকফুটে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন দেশের অন্যাতম এ রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করছেন। তাছাড়া সরকার বিরোধী বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত দলটির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি মুলদল বিএনপিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় লবিং-গ্রæপিং এখন চরম পর্য়ায়ে। দলের বৃহত একটি অংশ ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ ইকবালের ঘোর বিরোধী। দলীয় সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়ে-যদিও তারা ধানের শীষের বিরোধী কোন মনোভব দেখাচ্ছেন না-তবুও এ পক্ষ কি করবে সেটা ভাবার বিষয়। অন্যদিকে বিএনপির শরীক দল জামায়াতে ইসলাম এ নির্বাচনে কোন প্রার্থী দেই নি। প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। যেই নির্বাচিত হোক না কেন-তাতে কিছু আসে যায় না-এমনই একটা গাছাড়া ভাব তাদের। তারা আদৌ ভোটের মাঠে যাবেন কিনা-তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। এ ব্যাপারে তাদের কোন আলোচনা বা সমালোচনা নেই। যেন দর্শকের ভুমিকা পালন করে চলেছেন তারা। সুতরাং দলের লবিং-গ্রপিং এবং শরীদের নিষ্ক্রিয়তা ধানের শীষের প্রার্থীর ভরাডুবি হবার সম্ভবনাই বেশি। অতএব সার্বিক বিচার বিশ্লেষনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসানের নৌকা প্রতীক আগামী ৩০ জানুয়ারী নির্বাচনে বিজয়ী হবেন-এটা সময়ে ব্যাপার মাত্র।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *