বাগেরহাটে প্রকৌশলীকে মারপিট, চারদিন পর মামলা রেকর্ড

বাগেরহাট শহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফকে তার কার্যালয়ে ঢুকে মারপিট ও তুলে নিয়ে যাবার ঘটনার চার দিন পর রবিবার রাতে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া মামলা মামলাটি রেকর্ড করেছে। ঘটনার পরপরই বুধবার রাতে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী থানায়  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে পুলিশ চারদিন পর বাগেরহাট পৌরসভা‘র ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকেশ দাস, সহ-সভাপতি মারজান হাওলাদার, ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি সুজন ইসলাম এবং পরাগ হাওলাদারের নাম উল্ল্যেখ সহ ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২জনকে আসামী করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে মারপিটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি একে এম এ হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান।
বাগেরহাট পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ জানান, বুধবার রাত রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে একে একে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে ১০ যুবক পাউবো’র মদনেরমাঠ এলাকার অফিসে আসে। এরপর তারা বাগেরহাট সদর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফকে গালিগালাজ সহ মারপিট করে ঠিকাদারী বিল বকেয়ার অভিযোগ তুলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনির ও সাধারন সম্পাদক ওশান ডেকেছে বলে শহররক্ষা বাঁধে তুলে নিয়ে যায়। এসময় অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিত্যনন্দ ঠেকাতে গেলে তাকে মেরে নাক-মুখ ফাটিয়ে দেয় তারা। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের জানালে ঘন্টাখানেক পরে প্রকৌশলীকে ছেড়ে দেয় হামলাকারীরা। হামলাকারীরা বিল পাওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। সরকারি টাকা, কাগজপত্র দেখাতে পারলেতো টাকা দেয়া সম্ভন নয়। সিসিটিভি ফুটেজে দোষীদের সহজেই চিহ্নিত হলেও পুলিশ চার দিন পর রবিবার রাতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম জানান, পাউবো’র বাগেরহাট সদর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফ উপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২জনকে আসামী করে প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফের অভিযোগটি রবিবার রাতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

preload imagepreload image