গোপালগঞ্জে প্রেমের টানে একসঙ্গে তরুণ-তরুণীর বিষপান, অতঃপর মৃত্যু


গোপালগঞ্জে প্রেমের টানে ঘর ছাড়েন তরুণ-তরুণী। তবে মেয়ের বাবা তা মেনে নেয়নি। পরে বিচার বসিয়ে প্রেমিক অসিত বৈরাগীর পরিবারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন গ্রামছাড়া করেন। কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়। মেয়ের বাবা মামলা করলে প্রেমিক অসিতের মা ও খালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনা জানতে পেরে প্রেমিক ও প্রেমিকা একসঙ্গে বিষপান করে। এবং প্রেমিক অসিত বৈরাগী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গত সোমবার (৩১ মে) রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের অসিতের সঙ্গে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মানি তালুকদারের মেয়ে মনিরা খানমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মনিরার মা ওড়াকান্দি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য। ভালোবাসার টানে গত ২৫ মে অসিত প্রেমিকাকে নিয়ে ঘর ছাড়েন। পর দিন ইউপি মেম্বার তার স্বামী ও গ্রামের লোকজন নিয়ে সালিস বসান। সালিসে অসিতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সালিসের পর মনিরা বাবার বাড়ি ফেরে। এবং সালিসের রায় অনুযায়ী অসিতের মা লতিকা বৈরাগী (২৭ মে) গরুসহ সহায়-সম্বল বিক্রি করে মেয়ের বাবার হাতে তিন লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে টুঙ্গিপাড়া চলে যান।
পরে ২৭ মে প্রেমিক ও প্রেমিকা আবার পালিয়ে যান। এতে প্রেমিকার বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে অসিতের মা ও খালুকে ধরে এনে নিজ বাড়িতে আটক রাখেন। পরে ২৯ মে কাশিয়ানী থানায় প্রেমিকার বাবা বাদী হয়ে অসিতের মা ও খালু সহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এবং পরের দিন তাদের হাজতে প্রেরণ করা হয়। এঘটনার যের ধরে ৩০ মে দুপুরে অসিত-মনিরা বাড়ি ফিরে জানায় তারা ইতোমধ্যে বিষপান করেছে। পরে তাদের গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অসিতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসিত মৃত্যুবরণ করে। অপরদিকে প্রেমিকা মনিরা খানম গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত অসিতের মা লতিকা বৈরাগী বলেন, ‘ভালোবাসার টানে ঘরছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের ওপর প্রভাবশালী ওই পরিবারটি অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। এটি সইতে না পেরে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বিষপান করেছে। এসময় তিনি আবেগাপ্লুত অশ্রুসিক্ত নয়নে ছেলের মৃত্যুর বিসর্জন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসিতের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।