গরু বিক্রির টাকা দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন না স্বামী পরিত্যক্তা আমোদিনী

জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য পালিত শখের গরু বিক্রির টাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের ভাইকে ঘুষ দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের জমি সহ ঘর বরাদ্দ পেলেন না গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের ফুলকুমারী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা আমোদিনি বৈরাগী (২৫)। শুধু তাই নয় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় হুমকি-ধমকি সহ নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। জানাযায়, গত ভাদ্র মাসে জলিরপাড় ফুলকুমারী গ্রামের বিধবা মায়ের সংসারে ঠাঁই নেওয়া স্বামী পরিত্যক্তা ভূমিহীন আমোদিনী বৈরাগী জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায় ও ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য অসীম সরকারের ভাই অজিত সরকারকে গরু বিক্রির টাকা সহ ধার-দেনা করে নগদ ৭০ হাজার টাকা তুলে দেন একই গ্রামের পূর্ব পরিচিত আমোদিনী বৈরাগী। এছাড়াও ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ারম্যানকে দেওয়ার কথা বলে আমোদিনী বৈরাগীর নিকট থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ নেন অজিত সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া জমি সহ বিনামূল্যের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে শুধু ওই পরিবার নয় আরো একাধিক পরিবারের নিকট থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগীর মা ফুলমালা বৈরাগী (৬০) জানান, আমার মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা আমোদিনী বৈরাগী
তার একমাত্র নাবালক পুত্রকে নিয়ে আমার ঘরে আশ্রয় নিয়েছে।আশ-পাশের বিভিন্ন ক্ষেত-খামারে মুজুরী খেটে ও গরু বিক্রির টাকা মিহির চেয়ারম্যান ও সাবেক মেম্বর অসীম সরকারের ভাই অজিত সরকারের হাতে গত ভাদ্র মাসে তুলে দেয়। বছর পেরিয়ে গেলেও ঘর কিংবা ঘুষের টাকা কোনটাই ফেরত দেয় না তারা। আমরা টাকা চাইতে গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া সহ নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এছাড়াও জলিরপাড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য অসীম সরকারের মাছের ঘেরে এক বছরের অধিক সময় ধরে আমি, আমার ছোট ছেলে সঞ্জিত বৈরাগী (২০), বড় ছেলে শংকর বৈরাগী (৩০), মেয়ে আমোদিনী বৈরাগী সহ মোট ৪ জন কাজ করেছি। বিনিময় সে আমাদেরকে কোন পারিশ্রমিক দেয়নি। কিন্তু আমার ভূমিহীন ছেলে শংকর বৈরাগীকে থাকার জন্য একটি ঘর দিয়ে পারিশ্রমিকের টাকা ঘুষের টাকা হিসেবে কাটছাট করে।
আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আমাদের এমপি ফারুক খান স্যার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট আমাদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত সহ একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায়ের …২৮২৩৫ নম্বরের মুঠোফোনে তার বক্তব্য নিতে ৫ বার কল দিলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

অভিযুক্ত জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য অসীম সরকার আমাদের প্রতিনিধিকে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, এসব মিথ্যা ও বাজে কথা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত জলিরপাড় ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্যের ভাই ও বর্তমান জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত অজিত সরকারকে ঘুষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর বরাদ্দের অধিকার তিনি কোথায় পেলেন জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, আমি কারোর কাছ থেকে কোন টাকা -পয়সা নেইনি এই বলে সংযোগটি কেটে দেন।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইমাম রাজী টুলু বিষয়টি জেনে দুঃখ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীদেরকে একটি লিখিতো অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *