খেজুরের রস না পেলে ভেঙে ফেলা হয় হাঁড়ী

একটা সময় ছিলো। যখন পটুয়াখালীর গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে খেজুর গাছের দেখা মিলত। শীতের সকালে রসের হাঁড়ি নিয়ে গাছিরাও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। ঘরে ঘরে খেজুরের রসের পায়েস আর পিঠার গন্ধে ম ম করতো। তবে এখন আর দেখা মিলছে না সেই দৃশ্য ।

তবুও কিছু গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে। কিন্তু তাদের দিন কাটে অভাব অনটনে। গাছিরার বলেন, শহর থেকে অনেক সময় অনেকে রস খেতে গ্রামে আসেন। কিন্তু অনেক সময় তারা রস না পেয়ে হাড়ি ভেঙে ফেলেন। আবার কখনো কখনো হাঁড়ির মধ্যে মিশিয়ে রেখে যান নেশার জাতিয় দ্রব্য। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি গ্রামের এক গাছি বলেন, এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ নেই। যা আছে তাও আমরা অনেক পরিশ্রম করে কেটে থাকি। কিন্তু পাওয়া যায় না আগের মত রস। যতটুকু পাওয়া যায়, তাও আবার নিয়ে যায় চোরে। রাত্রে আমাদের রস চুরি করে লোকজন পিকনিক করে। মাঝে মাঝে রাতে পাহারা দেই, তারপর ছোট এক কলসের মতো হয়। যা ৫০০ টাকায় বিক্রি করি। সাধারণ জনগণ বলেন, ছোটবেলায় আমরা খেজুরের রস অনেক খেতাম। ঘরে ঘরে তৈরি হতো খেজুর রসের পিঠা ও পায়েস। কিন্তু এখন আর আগের মত রস দেখা যায় না। আবার কখনো কখনো টাকা দিয়ে রাখলেও পাওয়া যায় না।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *