পরিষদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কয়েকটি ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তি সহিংশুতায় নির্বাচিত দুই মেম্বর সহ কমপক্ষে ১৬ জন আহত ভোট কেন্দ্র ও বাড়িঘড় ভাংচুর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রে এ সহিংশুতার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া স্বাস্হ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাহাটি ভোট কেন্দ্রে ফলাফলকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত মেম্বর রুহুল আমীন হাজরা ও প্রতিদন্দী প্রার্থী ফরিদ শেখের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় নির্বাচিত মেম্বর রুহুল আমীন হাজরা (৪৫) সমর্থক কাওসার হাজরা (৪০) ও ইমরান হাজরা (৩৮) সহ তিনজন আহত হয়। কান্দি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বর সিদ্ধার্থ বাড়ৈ ও প্রতিদন্দী প্রার্থী বিরেন বৈড়াগীর কর্মি সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে এসময় নির্বাচিত মেম্বর সিদ্ধার্থ বাড়ৈ (৫০)তাপস বাড়ৈ (৩০)টমাস বাড়ৈ (২২)রেজাউল সৈয়াদ (৪২) তুষার অধিকারী (২১) স্বপন অধিকারী (৩৫) উজ্জ্বল অধিকারী (২২) অসীম অধিকারী( ২০) শ্রীভাস (৩৮) সহ ৯ জন আহত হয়।
শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ভোট কেন্দ্রে নির্বাচিত মেম্বর এমদাদ হোসেন কাজী ও প্রতিদন্দী প্রার্থী রুহুল আমীন খানেঁর কর্মি সমর্থকদের মধ্যে হামলার ঘটনায় স্বপন পান্ডে(৩০) ও ,গোকুল ভাবুক (৪৫) নামের দুই সমর্থক আহত হয়েছে। আমতলী ইউনিয়নের উনশীয়া গ্রামে পরাজিত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন বিশ্বাসের সমর্থকরা নির্বাচিত মেম্বর খোকন হাওলাদারের সমর্থক মস্তফা বিশ্বাসের বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে। আমতলী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আলম শাহ ও জিকরুল আমীন মিল্টন মেম্বর প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং ৫১ নং ছোট দক্ষিনপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র ও নির্বাচন কাজে নিয়োজিত গাড়ি ভাংচুর করে তালা মার্কার সমর্থকরা ।
এর আগে সকালে ভোট চলাকালীন সময় রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের সিতাইকুন্ড কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট কামাল হোসেন হাওলাদার ও পরাজিত মেম্বর প্রার্থী বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সমর্থক শ্রমিকলীগ সভাপতি কালাম শেখের সাথে ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটে ।জটিয়ারবাড়ী কেন্দ্রে এক ভোটারকে মারপিট করা,হয়েছে। এছাড়াও তারাইল ভোট কেন্দ্রে সহিংশুতার ঘটনায় বিধান বিশ্বাস (৩৫) হরপ্রসাদ বিশ্বাস (২৭) আহত হয়েছে। ৫১ নং ছোট দক্ষিনপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এস এম সি কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন হাজরা বলেন নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবেই কিন্তু একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা করে ভাংচুর করা ঠিক হয়নি এটা অত্যান্ত দুঃখজনক ঘটনা বিষয়টি নিয়ে তারা অনুতপ্ত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) দিপঙ্কর বালা বলেন আমরা বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি,এখন উর্ধতণ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে বিধি মোতাবেক ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন কয়েকটি স্হানে সহিংশুতার খবর পাওয়া গেছে, পুলিশ ঘটনাস্হল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে,তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি,অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।