করোনার মৃতদেহ দাফন/সৎকারে এখোনো সক্রিয় বরিশাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

 বরিশাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এখনো

 বরিশাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এখনো করোনার মৃত দেহ দাফন/সৎকারে সক্রিয় রয়েছে। প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও করোনা ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আতংক বিরাজ করছে।

গত বছর থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যারা মৃত্যু বরন করেছেন শুরু থেকেই মানবিক কারনে আত্মার আত্মীয় হয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সবার পাশে ছিল। তবে গত বছরের চিত্রটা ছিল অমানবিকতার। আপনজনদের দাফন/ সৎকারে এগিয়ে না আসা, লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়া এ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রক্তের আত্মীয়কেও পর করে দিয়েছে করোনা।

এ বছর আপনজনদের অনেকে পাশে থাকা শুরু করেছেন ভয় কাটিয়ে উঠে। এরই মধ্যে আজ বরিশাল মহাশশ্মানে ঘটেছে হৃদয় বিদারক এক ঘটনা। বাদল কর্মকার নামে একজন লোক দুপুর ০১.০৫ মিনিটে বরিশালের শের-ই-বাংলা-মেডিকেল-কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। তার বাড়ি মঠবাড়িয়া বাগেরহাটের শরনখোলার রায়েন্দা বাজার এলাকায়। দু’দিন আগে সে করোনার কিছু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আজ তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাকে শশ্মানে নিয়ে আসা হয়। এর পর তার দু একজন আত্মীয় উপস্থিত থাকলেও মৃতের অন্ত্যষ্টিক্রিয়া মুখাগ্নীসহ সব প্রক্রিয়া কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরাই পরম মমতায় সম্পন্ন করে। কেউ মৃতদেহের কাছেও এগিয়ে আসেনি। কিছু সময় বাদে তারাও শশ্মান থেকে চলে যান। বাকী আত্মীয় স্বজনদের দেখা মেলেনি একবারের জন্যও।

এ নিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সাথে কথা বললে তারা জানায় কোন মানুষ সে যদি অসহায় হয়, সে হোক মৃত বা জীবিত তার পাশে কেউ না থাকলেও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সব সময় পাশে আছে। যেখানেই মানবিকতা বিপন্ন সেখানেই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ।

কোয়ান্টামের বহুমুখী সেবার মাধ্যমে দাফন সেবা কার্যক্রম নামে সেবা বরাবরই চালু ছিল। এই করোনা কালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন করোনায় মৃতদের দাফন/সৎকার করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফোন পাওয়া মাত্রই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীরা ছুটে যান হাসপাতালে, কারো বাসায়, গোরোস্থানে কিংবা শশ্মানে।

হোক দিন বা রাতের যে কোন সময় , মানুষকে সেবা দিতে তারা অক্লান্ত।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *