ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু যেন নির্বাসিত!


বিভিন্ন স্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর ছবির স্থান হলেও ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে যেন নির্বাসিত জাতির জনকের ছবি। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের সব সরকারি- বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস পালিত হলেও হয়নি ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে। আর এখনও টানানো হয়নি ওই প্রেসক্লাব ভবনের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এই নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের একাধিক সাংবাদিক জানান, রাজনৈতিক কারণে ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন। এ কারণেই প্রেসক্লাবে জাতির জনকের ছবি বা প্রতিকৃতি থাকা উচিত। বর্তমান সময় অনুকূল থাকলেও এই মহান কাজটি বাস্তবায়ন হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। সন্দেহের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে মামলা ও পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে রাতারাতি সাংবাদিক বনে যান তিনি। মূলত জামায়াত- বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের এই সাধারণ সম্পাদক।
এমন ব্যক্তি নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো পছন্দ করবেন না। এই সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির এক শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট ছাড়াও উপজেলার শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন কায়দায় সবকিছু তিনি ম্যানেজ করে চলতে পারবেন। ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো দলীয় নেতা নন। তিনি জাতির পিতা। আমরা বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর দাবি তুলেছি। তারপরেও ছবি টানানো হয়নি।
যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক নেতারা তাদের নিজস্ব কোনো বসার স্থান না থাকার কথা জানালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুছ ছাত্তার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজার মরিচ মহালে প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও প্রেসক্লাবের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। নির্মিত এই ভবনটিতে প্রেসক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম চালু হলেও রাখা হয়নি সেখানে জাতির অবিসংবাদিত নেতার কোনো নিদর্শন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন, পৌরমেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তারসহ আওয়ামী লীগ এবং তাঁর সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও বিভিন্ন সময়ে প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সহায়তা করেছেন।
তারপরেও আওয়ামী লীগের অবদানকে মূল্যায়ন করা হয়নি ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে। অথচ জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো ছাড়াও বিভিন্ন প্রেসক্লাবে প্রতিকৃতি রয়েছে। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট পালন করা হয় জাতীয় শোক দিবসও। কিন্তু ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে অন্য বছরগুলোর মতো শোক দিবসের কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি। বর্তমান প্রেসক্লাব অফিসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না টানানোর বিষয়ে জানতে ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার বলেন, আগের প্রেসক্লাব অফিসে (মেইন রোডের কাছাকাছি অবস্থিত অফিস) বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো ছিল। এই অফিসে ২-৩ দিনের ভেতর বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো হবে।