ঈশ্বরগঞ্জে “ঘুষের টাকা’ফেরত দিল পুলিশ সেই কিশোরের বিয়ে ও পুলিশের ‘ঘুষ’ কাণ্ডে তদন্ত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঘুষের টাকা ফেরত দিল পুলিশ মামলার নামে পুলিশের ‘ঘুষ’ নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করছেন। শনিবার ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যে ঘটনার সত্যতাও পাওয়া গেছে। ওই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা আলদিয়ার আলগী গ্রামের কিশোর মিজান মিয়া বিজয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী তরুণীর বিয়ে দেওয়া হয় গত ১৩ আগস্ট। পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে কিশোরকে বিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় তরুণীর পরিবার।
জাল জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে কিশোরকে বিয়েতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ তার পরিবারের। কিশোরের কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করতে গেলে কয়েক দফায় পরিবারের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নেন এএসআই কামরুল হাসান। আবার কিশোর উদ্ধারের পর তরুণীকে গ্রহণ না করায় কিশোরীর পরিবার থানায় যৌতুকের মামলা করতে গেলে এএসআই কামরুল নেন ২৭ হাজার টাকা। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত হলে ঈশ্বরগঞ্জে “ঘুষের টাকা’ ফেরত দিল পুলিশ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার খবরটি নিয়ে তদন্তের জন্য সোমবার দায়িত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌরীপুর সার্কেল, শেখ মোস্তাফিজুর রহমানকে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয় আদেশে। দায়িত্ব পেয়ে গত মঙ্গলবার কিশোর মিজান, তার বাবা, কিশোরের নানা, তরুণীর বাবা, গ্রাম পুলিশের সদস্য মানিককে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কিশোর, তার বাবা ও নানা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেন। শনিবার তরুণীর বাবা সাক্ষ্য দিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌরীপুর সার্কেল, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবার সাক্ষ্য নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহা.আহমার উজ্জামান জানান অভিযুক্ত এএসআইর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও মামলা হতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *